• শিরোনাম

    সফল ছাত্রনেতা থেকে গাজীপুরের জনপ্রিয় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

    মেয়র জাহাঙ্গীর আলম
    মো. মেহেদী হাসান, গাজীপুর:
    গাজীপুর নগরীর কানাইয়া গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান ও জায়েদা খাতুনের ঘর আলোকিত করে ১৯৭৯ খ্রীষ্টাব্দের ৭ মে মেজো সন্তান হিসেবে জন্ম গ্রহণ করেন আজকের গাজীপুর মহানগরের নগর পিতা আলহজ্ব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম।

    ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথে হাঁটা জাহাঙ্গীর আলমের গাজীপুরের কানাইয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। একই গ্রামের মক্তব থেকে রপ্ত করেন পবিত্র কোরআন ও হাদিস অধ্যয়ন। পরবর্তীতে চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে মানবিক শাখায় এসএসসি ও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি, অনার্স, মার্স্টাসসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে এলএলবি পাস করেন।

    ছোটবেলা থেকেই দেশের সেবা করার স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠেছেন জাহাঙ্গীর আলম। সেই স্বপ্ন অনুযায়ী কাজও করেছেন। গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। গাজীপুর মহানগর বাস্তবায়ন কমিটি করে আন্দোলন গড়ে তোলে সফল হন।

    স্কুলজীবন থেকেই সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মিতভাষী তিনি। দশম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। গাজীপুরের চান্দনা উচ্চবিদ্যালয় থেকে সফলতার সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন জেলার ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে লালিত পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠা জাহাঙ্গীর আলমের তার মামার হাত ধরে চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে রাজনীতির হাতেখরি। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক হিসাবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।  সততা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জাহাঙ্গীর আলম খুব অল্প সময়ে পরিচিতি পেয়ে যান এবং পর্যায়ক্রমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০০৯ সালে জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার সুবাদে টঙ্গী এবং জয়দেবপুর থানার পুরো এলাকাবাসীর সঙ্গে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সুখে-দুঃখে তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এলাকার অধিকাংশ কল-কারখনার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে থাকায় তার কাঁচা পয়সা ছিল প্রচুর। এসব ক্ষেত্রে তিনি এলাকার বেকার যুবকদেরও অর্থ তথা কর্মসংস্থান করে দিয়েছেন। সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিতে না পারলেও তিনি নিজের অর্থ দান করেছেন মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে। কেউ তার কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেননি। ফলে অল্প সময়ে তিনি এলাকাবাসীর মন জয় করতে সমর্থ হয়েছেন।

    গাজীপুরের সর্বত্র যখন হাইব্রিড, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ বা পাতিনেতারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত তখন জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পডুয়া ২৫ হাজার ছাত্রছাত্রীকে তার ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করেছেন। কারো কারো পুরো শিক্ষাব্যয়ও বহন করেছেন। সবাইকে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা বৃত্তি প্রদান করেছেন। যেটা নজিরবিহীন।

    একসময়ের মাঠ কাঁপানো ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীন মানুষের মনে নিজের জায়গাটি পোক্ত করে ফেলেন। নির্বাচিত হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম থেকে ছাত্রলীগকে মুক্ত রাখতে গ্রহণ করেছিলেন নানা উদ্যোগ। সফলতাও পান। হয়ে ওঠেন মানুষের আস্থার প্রতীক।

    এ ছাড়াও নিজেকে ঘুষ-দুর্নীতির বাইরে রেখেও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাস্তাঘাট মেরামত, মসজিদ মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুদান, সেবা ও আপদ-বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত হয়ে ওঠেন সব বয়সী মানুষের নয়নের মনি, প্রিয় থেকেও প্রিয়তর নেতা কিংবা স্বপ্নের মেয়র।

    ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে মেয়র পদে দলীয় সমর্থন চেয়েছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। যিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়িয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। সেই জাহাঙ্গীর ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নির্বাচনের মাঠে নামলে দল তাকে সমর্থন দেয়নি।

    সেইদিনের মহানুভবতার উপহার হিসেবে সিটি নির্বাচনের বছরখানেক পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বটি দেন জাহাঙ্গীর আলমকে। এমনকি সেই সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে পরবর্তি নির্বাচনের জন্য মাঠ গোছানোর জন্যেও নির্দেশেনা দেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে মহানগরের সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুদায়িত্ব পেয়ে নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি দিয়ে ঝিমিয়ে পড়া আওয়ামী লীগকে প্রাণের সঞ্চার করেছেন আজকের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

    সকল জল্পনা কল্পনা ছাড়িয়ে ২০১৮ সালের ২৬ জুন আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতিক নৌকা প্রতিক নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে  মো. জাহাঙ্গীর আলম ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকার পান ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। নির্বাচনে মেয়র জাহাঙ্গীরের প্রতিশ্রুতি ছিল গাজীপুর সিটিকে একটি গ্রীন ক্লিন সিটিতে রুপান্তর করে আধুনিক বাসযোগ্য শহর গরে তোলা।

    প্রায় ৩২৯ কিলোমিটার বিশাল আয়তনের ৪০ লাখের অধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত গাজীপুর সিটিকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের নেয়া পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হয়ে সরকারও বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে এ মহানগরীকে। নানামুখী উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চিত্র।

    নগরীর প্রথম নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ যেখানে ৫ বছরে একশ কোটি টাকাও সরকারি বরাদ্দ আনতে পারেননি সেখানে দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র আট মাসেই নগরীর উন্নয়নের জন্য সরকারি ফান্ড থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন পেয়েছে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা।

    বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশের পরিকল্পিত শহর ঘুরে দেখে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন মেয়র। বিশেষ করে চিনের কুনমিং শহরের মেয়রের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একটি চুক্তিও হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন আধুনিক শহরের আদলে গাজীপুরকে আকর্ষণীয় ও পরিকল্পিত আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মেয়রের প্রধান লক্ষ্য।

    ইতোমধ্যে মেয়র নগরীর উন্নয়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে সাত হাজার ২৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন । এর মধ্যে গত ২৫ জুন একনেকের বৈঠকে গাজীপুর সিটির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৩ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন জোনের প্রধান সংযোগ রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। সিটি কর্পোরেশনের ৩ হাজার ৯০০ জনের জনবল কাঠামো অনুমোদিত হয়েছে। যার নিয়োগ প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। পুরো সিটিকে ৮টি জোনে ভাগ করে উন্নয়ন কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। নগরীর বিদ্যুৎ অপচয় রোধ ও সাশ্রয়ের জন্য সোলার প্যানেল এনার্জি সেইভার সড়কবাতি স্থাপন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের জন্য এসফল্টপ্লান্ট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ, কবরস্থান নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। সিটি কর্পেোরেশনের নিজস্ব প্রকল্প ছাড়াও ৪২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প ও ঢাকা বাইপাস সড়কের উন্নয়নে ১২শ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। যার সমন্বয় করছে সিটি কর্পোরেশন। এ প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলেই নগরবাসী তাদের দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে পাবে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad