• শিরোনাম

    টঙ্গীতে কাউন্সিলর, পুলিশ ও যুবলীগ নেতার নামে সড়কে চাঁদাবাজি

    গাজীপুরা স্ট্যান্ডে সিরিয়াল দিয়ে অবস্থানরত ইজিবাইক
    বিশেষ প্রতিনিধি, গাজীপুর.নিউজ:
    গাজীপুর নগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানার গাজীপুরা সাতাশ সড়কে গাজীপুরা ও গুটিয়ার মেডিকেল কলেজ স্ট্যান্ডে স্থানীয় কাউন্সিলর, থানা, যুবলীগ নেতা ও আওয়ামীলীগ অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রায় তিন দুই শতাধিক ইজিবাইক থেকে জিপি’র নামে বছরে সত্তর(৭০) লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে তিনটি সিন্ডিকেট।

    গাজীপুরা স্ট্যান্ড থেকে গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন স্ট্যান্ডে প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে প্রতিনিয়ত চলমান রয়েছে প্রায় পাঁচশ অটো রিকশা ও দুই থেকে আড়াই শ ইজিবাইক। অজানা কারণে অটো রিকশা চালকরা চাঁদাবাজদের হাত থেকে বাঁচলেও প্রত্যেক ইজিবাইক চালকদের প্রতিদিন জিপি’র নামে গুনতে হয় একশ টাকা চাঁদা। জিপিটা যেন এই সড়কে একটা বাধ্যতামূলক ওপেন বিষয়।

    অনুসন্ধানে দেখা যায়, গাজীপুরা স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় থাকে দুইটি সিন্ডিকেট। স্থানীয় পঞ্চাশ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বকর সিদ্দিকের ছোট ভাই টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবলীগের পদ প্রত্যাশী সক্রিয় নেতা কাজী কামালের নাম ভাঙ্গিয়ে রুবেলের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে একশ ইজিবাইক। একান্ন নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের নাম ভাঙ্গিয়ে পয়ত্রিশটি ও সংশ্লিষ্ট থানার নাম ভাঙ্গিয়ে ত্রিশটি মোট পয়ষট্টিটি ইজিবাইক নিয়ন্ত্রন করে আলিফ-ঘ্যাসু সিন্ডিকেট এবং গুটিয়া স্ট্যান্ডে আতাউরের নিয়ন্ত্রনের রয়েছে ত্রিশ-চল্লিশটি ইজিবাইকের তৃতীয়তম সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের নিয়োগকৃত লাইনম্যান দ্বারা বিশেষ স্টিকার দিয়ে চিহ্নিত তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিটি ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন আদায় করা হয় একশ টাকা করে চাঁদা। দুইশ চালকদের কাছ থেকে প্রতিদিন আদায় করা হয় বিশ হাজার টাকা চাঁদা যা সপ্তাহে এক লক্ষ চল্লিশ হাজার এবং বছরে প্রায় সত্তর লক্ষ টাকার উপরে।

    রুবেল, আলিফ ও আতাউর মুঠফোনে জিপি’র নামে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে স্বীকার করে বলেন, সবাইকে ম্যানেজ করে আমাদের কিছুই থাকেনা, আপনি আইসেন স্বাক্ষাতে কথা হবে।

    চঁদাবাজির ব্যাপারে জানতে যুবলীগ নেতা কাজী কামালের মুঠফোনে একাধিকবার কল করে সুইচ অফ পাওয়া গেছে। তবে কামালের বড় ভাই স্থানীয় কাউন্সিলর কাজী আবু বকর সিদ্দিক ছোটভাই কামালের মোবাইল নং সরবরাহের সময় প্রতিবেদককে জানান, আমার ছোট ভাই কামাল এই ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত নয়, কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য তার নাম বলেছে।

    একান্ন নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, চঁদাবাজরা আমার নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বলেছে, আমি এর সাথে জড়িত নই বরং গাজীপুরা স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির সাথে অনেকেই  জড়িত।

    গাজীপুরা স্ট্যান্ডে ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার কোন সদস্য জড়িত রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এমদাদুল হক বলেন, এই চাঁদাবাজির সাথে আমাদের কোন সদস্য জড়িত নেই। যারা এই চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী সার্কেলের সহকারী কমিশনার আহসান হাবিবের কাছে চাঁদাবাজি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad