• শিরোনাম

    ১৯ মার্চ শহীদ টুনু খলিফাই মনু খলিফা, ১৯ মার্চের মহানায়ক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রীর নিকট ছেলের খোলা চিঠি


    ১৯ শে মার্চ, ১৯৭১ইং
    চৈত্র মাসের ৫ তারিখ ১৩৭৭ বাংলা।
    প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে ঐতিহাসিক জয়দেবপুরে
    পাকবাহিনীর গুলিতে নিহত "টুনু খলিফা"
    "যিনি হলেন গাজীপুর জেলার, জয়দেবপুর সদর থানা বাড়ীয়া ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের কালনি গ্রামের, বাসিন্দা "নাম ঃ আফতাবুদ্দিন ওরফে "টুনু খলিফা" পিতা মরহুম কাদিমালী খা।  
    টুনু খলিফার ৪( চার) ভাই  মোঃ শামসুদ্দিন খা , ইউনুস খা,  আফছার খা, ও টুনু খলিফা"। যিনি সংসারী জীবনে নিজ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের কামারিয়া গ্রামের মৃত ঃ দৌলত আলী ব্যাপারীর মেয়ে জোবেদা খাতুন এর সাথে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হন। 
    এবং তার ই ধারাবাহিকতায় জিবিকা নির্বাহের তাগিদে  কালনিগ্রামের নিকতম জয়দেবপুর বাজারে  কাপড় সেলাইয়ের কাজে খলিফা  কাজ করেন। । আর তাতে যা উপার্জন করতে পারতো এ নিয়ে চলতে হতো  টুনু খলিফার সংসার। বাবা টুনু খলিফার সংসারে  
    আমরা ভাই বোন মিলে ৫( পাচ) জন। আমি সবার ছোট ছেলে।  বাবা প্রতি দিন  জয়দেবপুরে আসার সময়    আমাকে কোলে নিয়ে কথা বলতেন, অনেক আনন্দ দিয়ে এক ফাকেআমাকে রেখে আসতে যে কস্ট পেতেন তা এখন বুঝতে পারলাম।  বাবা বাড়ীতে ফিরতে রাত হলে মা " কারণ জান্তে চাইলে বাবা বলতেন একটু  গল্প করে এসেছেন জামাই বারিক মিয়া ও বাড়ীয়া র অভিভাবক একমাত্র ঠিকানা,  আজকের মুক্তিযোদ্ধা বিষয় মন্ত্রী এডভোকেট আ,ক,ম মোজাম্মেল হক, এম পি স্যারের সাথে , তাতে মা খুব খুসি হতেন।

    ১৯ শে মার্চ রোজ শুক্রবার, 
    জয়দেবপুর বাজারে এসেই পাক বাহিনীর গুলিতে  নিহত হলেন কালনি গ্রামের সকলের প্রিয় মানুষ টি । 
    দিশেহারা গাজীপুর বাসীরা, ভুলে গেলেন একে অপরের কথা, বাবার লাশটি পরে থাকতে দেখেছে অনেকে, কিন্তু এটা যে " টুনু খলিফা তা পারলনা কেউ বলতে। তাছাড়া না চিনার ই কথা। টুনু খলিফা,  কোন নেতা নয়, এবং চিনতে পারলে ও লাশের কি হবে, এটাও চিন্তার কথা ভেবে ভয়ে পালাচ্ছে মানুশ যার যার মতো করে আপন ঘরে। 

    আমি খুব একটা বুঝতে না পারলে ও  বাবাকে যে  পাইনা, তা বুঝতে পেরেছিলাম। তা ছাড়া কি যেন অভাব , প্রকাশ না করে আমি নাকি কাদতাম, আর পেট ব্যথা করে বলতাম,। মা জোবেদা খাতুন  নিজের বাপের বাড়ী, হতে যখন যা ই পাইতেন আমাদের জন্য তা নিয়ে বাচতে শুরু করলেন। মা তার ভাইদের অনেক আদরের বোন ছিলেন, বলে মাকে কামারিয়া নিয়ে গেলেন। এতে আমাদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবলেন বড় আপা। শিক্ষার পাশাপাশি সংসারী,হয়ে ছোট ভাইবোন দের লেখা পড়ার ব্যবস্থা করলেন। আমরা বড় হলাম, এখন জানতে চেষ্টা করলাম,  বাবা টুনু খলিফার কথা। 

    যখন  দেশে ১৯ শে মার্চে   শহীদের নামে তালিকায় বলে "মনু খলিফা " আমি শুধুশুনি, এ যেন "টুনু খলিফা বলা হয় যিনি আামারই বাবা।
    অনেক দিন পর বিভিন্ন ইতিহাসের খাতায়, পেপার আার সৃতিচারনে দেখি  " মনুখলিফা কে ছোট কথা বলে ইতিহাসের পাতায়। যেখানে নিজের জন্য চাইনি বাবার লাশ, সেখানে  কিনা তার ই পরিচয় দিয়ে, চলছে অবাধে অভিযোগ দিয়ে হা হা কার।
    কোন এক পেপারে লিখা জাতির পিতার দেওয়া  মিরপুরে বাড়ীটি ও পায়নি,  আাবার ১ বিঘা জমি  জোলার পার এলাকায় তা ও দেয় নাই এমন কিছু ঘটনা নিয়ে কখনো তো ভাবিনি।  আাবার নিজে জেনে ও যে কথাটি বলিনি, সেই শহীদ নেয়ামত এর পাশে আছে কবরে লাশ। একটি যন্ত্রনাকে মুছতে গিয়ে দেখি কবরে লিখা শহীদ  "মনু মিয়া " এতো মেনে নেওয়া যায়না।
     এ-তো শহীদের  প্রতি অ স ন্মান। তাই 
    ১৯শে মার্চের মহানায়ক, 
     মাননীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী, 
    এডভোকেট, আ,কম মোজাম্মেল হক সাহেবের নিকট  বিনীত দাবী,  
    বাড়ীয়ার, কালনি গ্রামের,  ১৯শে মার্চে নিহত টুনু খলিফার, পরিচিতিতে কোন ভুল হয়ে থাকলে সংশোধনের আদেশ দিতে।  তাতে শাহীদের পরিবার, কৃতজ্ঞ থাকিবে। 

     এডভোকেট মোঃ মোবারক হোসাইন খান 
      সন্তান 
    শহীদ টুনু খলিফা,
    বাড়িয়া, গাজীপুর, 
     ০১৭১৮ ৪২৫ ৯১৯. ০১৭৫৯ ২৭০৮৯৩.

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad