মহামারীতেও গাজীপুর সিটির ইজারা বাজারে চাঁদাবাজি, চাই পুলিশের হস্তক্ষেপ
মো. মেহেদী হাসান, বিশেষ প্রতিবেদক(গাজীপুর), দৈনিক সরেজমিন বার্তা:
‘চাঁদাবাজি’ ইংরেজিতে ‘Extortion’ অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুযায়ী যার মানে ‘জোর বা হুমকির মাধ্যমে কিছু অর্জনের অনুশীলন, বিশেষত অর্থ প্রাপ্তি।’ আমাদের দেশেও চাঁদাবাজির অপরাধে ‘দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারা’ ও ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এর ধারা ২(খ)-এর (অ)’ তেও বলা রয়েছে ‘কোন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করিয়া বা বেআইনি বল প্রয়োগ করিয়া- কোন ব্যক্তি, বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে চাঁদা, সাহায্য বা অন্য কোন নামে অর্থ বা মালামাল দাবী, আদায় বা অর্জন করা বা অন্য কোন প্রকার সুযোগ-সুবিধা আদায় করা বা আদায়ের চেষ্টা করা একটি - আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ।’
বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী মোঃ কাওসার হোসাইন দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে জানান, ‘বলপূর্বক অর্থ আদায়কে প্রচলিত আইনে চাঁদাবাজি বলা হয়। আর চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। এছাড়া ইজারালব্দ হাট-বাজারে অনিয়ম বন্ধে চাইলে প্রশাসনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।’
আইন যদি একথা বলে থাকে, তাহলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ইজারাকৃত নগরীর সদর থানাধীন সালনা বাজারে ইজারা টোল আদায়ের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারের থেকেও কৌশলে তথা বলপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায়কে কেন চাঁদাবাজি বলা হবে না? আর যদি এই অতিরিক্ত অর্থ আদায় চাঁদাবাজি হয়, তাহলে পুলিশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে তথা চাঁদাবাজি বন্ধে কেন ব্যবস্থা নিবেনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার(উত্তর) আবু লাইচ মোঃ ইলিয়াস জিকু জানান, ‘হাট বাজারে অনিয়ম সাধারণত জেলা প্রশাসন দেখেন, তার পরেও আমাদের কাছে যেহেতু আপনি জানিয়েছেন, সেহেতু আপনি সদর থানায় একটি অভিযোগ জমা করেন, আমরা ব্যবস্থা নিব।’
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান মৃধা জানান, ‘দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই অফিসিয়ালি আমরা সালনা বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। একই সাথে সরকার নির্ধারিত হারে টোল চার্ট বাজারের দৃশ্যমান স্থানে টানানোর ব্যবস্থা করা হবে।’
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরদার জানান, ‘তদন্ত সাপেক্ষে আমরা সালনা বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিক ভাবে সপ্তাহে দুই বার(রবি ও বৃহস্পতিবার) সালনা বাজারে হাট বসলেও প্রতিদিনই বিকি-কিনিতে জমজমাট থাকে এই বাজার। আর এই সুযোগে ইজারাদার পক্ষের লোক বাগিয়ে নেন টোল নামের অতিরিক্ত অর্থ। সিটি কর্পোরেশনের হাট-বাজার ইজারা টোল আদায় চার্ট ঘেটে দেখা যায়, তরকারির ছোট দোকান থেকে ১০ টাকা আর বড় দোকান থেকে ২০ টাকা টোল আদায় করার কথা থাকলেও সালনা বাজারে বিশেষ করে হাটের দিন ছোট দোকান থেকে আদায় করা হয় ৫০ টাকা আর বড় দোকান থেকে ১০০ টাকা। ফলের ছোট দোকান থেকে ১৫ টাকা আর বড় দোকান থেকে ২০ টাকার টোল আদায়ের কথা থাকলেও টোলের নামে আদায় করা হয় ৫০ থেকে ২০০ টাকা। ইজারাদার কর্তৃক বাজারের দৃশ্যমান স্থানে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত টোল আদায়ের চার্ট টাঙ্গানোর নিয়ম থাকলেও তা না করে ইজারাদারের ম্যানেজার মাছ, মাংস, হাঁস, মুরগী, গুর, পান, সুপারী, পেয়াজ, মরিচ, রসুন, আদাসহ সকল প্রকার কৃষি ও অকৃষি পণ্যের দোকানে টোল আদায়ের সরকারী হারের থেকেও প্রায় ৫ থেকে ১০ গুন বেশি টাকা আদায় করছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী বাজারে উৎপাদিত ময়লা আবর্জনা ইজারাদার নিজ খরচে পরিস্কার করার শর্ত থাকলেও সালনা বাজারে প্রতি দোকানীর ময়লা পরিস্কার বাবদ গুনতে হয় আলাদা ২০ টাকা।
সালনা বাজারের ইজারাদার গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, ‘আপনি অনুসন্ধানে যা পেয়েছেন তা চাইলে ফ্লাশ করতে পারেন, আমরা সিটি কর্পোরেশনকে বাজার বুঝিয়ে দিয়ে দিবো। এছাড়াও তিনি অভিযোগ জানান, ’সালনা বাজর সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন অবৈধ ভাবে কেউ বাজার বসিয়েছে, এ ব্যাপারটাও আপনারা নজরে নিয়েন।’
সূত্র: জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা
সূত্র: জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা

কোন মন্তব্য নেই