• শিরোনাম

    গ্রীণ হাসপাতালে ১ করোনা পজেটিভ ১৪ কোয়ারেন্টিনে, সেবা অব্যাহত


    মো. মেহেদী হাসান, গাজীপুর:
    সপ্তাহে একদিন দায়িত্ব পালন করা একজন ডাক্তারের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পজেটিভ হওয়ায় গ্রীণ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবে ঐ ডাক্তারের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে উপস্থিত চৌদ্দ জন স্টাফকে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরাবরের ন্যায়ে এই করোনার মহামারীকালীন সময়ও সরকারী নির্দেশনা তথা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিন রাত ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছিল গাজীপুর নগরীর জয়দেবপুরস্থ মারকাজ মসজিদ সড়ক সংলগ্ন গ্রীণ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব। সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতায় প্রতি সপ্তাহের ন্যায়ে গত ১৪এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক। উপসর্গ পরিলক্ষিত হলে ২০ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ হলে আইসোলেশনে চলে যান ঐ ডাক্তার। খবর পেয়ে গ্রীণ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবের স্বত্বাধিকারী মোঃ ইসমাইল মোল্লা স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ সাপেক্ষে করোনা পজেটিভ ঐ ডাক্তার গ্রীণ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে উপস্থিত চৌদ্দ জন স্টাফকে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে ঐ ডাক্তারের চিকিৎসা প্রদান কক্ষসহ হাসপাতালের সম্ভাব্য সকল স্থানে জীবানু নাশকের ব্যবস্থা করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে হাসপাতালের সকল সেবা চালু রাখেন।

    গ্রীণ হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী মোঃ ইসমাইল মোল্লা জানান, ‘এই মহামারী মোকাবেলায় গ্রীণ হাসপাতাল সকল বিধি মেনে সরকারের পাশে থেকে মানুষকে সেবা দিয়ে যাবে। একই সাথে তিনি তার হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করা  শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঐ চিকিৎসকের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।’ এছাড়াও ইসমাইল মোল্লা বলেন, ‘আমার হাসপাতালের যে সকল কর্মকর্তারা এখন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন, তারা যেন কোনও রকম সামাজিক প্রতিহিংসার স্বীকার না হয় সে ব্যাপারে পুলিশ-প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছি।’

    গাজীপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যে(২৫ এপ্রিল ২০২০) গ্রীণ হাসপাতালের যেসকল স্টাফ কোয়ারেন্টিনে আছে তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ করেছি, পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে তাদের অবস্থা জানা যাবে।’

    কোয়ারেন্টিনে থাকা গ্রীণ হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবের ম্যানেজার রুমানা আফরিন জানান, ‘গ্রীণ হাসপাতালের আমরা যেসকল কর্মকর্তা কোয়ারেন্টিনে আছি তারা প্রত্যেকেই স্বাভাবিক সুস্থ আছি। একই সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমানা জানান, ‘সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ আমাদের স্যাম্পল নিতে দেরি করে আমাদেরকে আরও দুশ্চিন্তায় রেখেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের উচিৎ ছিল আমাদের স্যাম্পল আরও আগে নিয়ে পরীক্ষা করে রিপোর্ট জানানো।’

    গাজীপুর নগরীর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর ভূইয়া সদর থানাধীন স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট সকল ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সাথে সমাজের সকল মানুষ যাতে ইতিবাচক ব্যবহার করে সেই আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে সকল ব্যাক্তি বা স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে ছিলেন জেনে, এখন নিজেকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছেন তাদের পাশে সদর থানা পুলিশ সব সময় থাাকবে।’

    কোন মন্তব্য নেই

    Post Top Ad

    Post Bottom Ad