গাজীপুরে ডাক্তার শূন্য কেন্দ্রে চিকিৎসা ঝুঁকিতে মাদকাসক্তরা

মো. মেহেদী হাসান, গাজীপুর:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের তথ্য মতে এই জেলায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে ২৪টি, এর ভেতরে ২০টি রয়েছে অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত বাকি ৪ টি রয়েছে লাইসেন্সের জন্য আবেদিত।
লাইসেন্স প্রাপ্তরা হলেন: ১.আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১.ভাওয়াল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৩.প্রশান্তি মাদকাসক্তি নিরাময় ও তথ্য কেন্দ্র, ৪.বন্ধন মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, ৫.ছায়া মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৬.সুন্দর জীবন মাদকাসক্ত পুনর্বাসন, সহায়তা ও পরামর্শ কেন্দ্র, ৭.সাদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৮.নব জীবন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৯.গ্রীণ হাউজ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১০.ধ্রুবতারা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১১.নিউ আশির্বাদ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১২.আদর্শ জীবন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৩.আলোর ভূবন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৪.এজেফ মাদকাসক্তি চিকিৎসা, পুনর্বাসন কেন্দ্র, ১৫.নিউ প্রত্যয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৬.নিউ অঙ্গিকার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৭.আলোর জীবন মাদকাসক্তি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ১৮.নিউ লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ১৯.জীবনের স্বপ্ন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ও ২০.মৌচাক মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। লাইসেন্স থাকলেও এসকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।
‘বেসরকারী পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৫’ মোতাবেক এসকল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স পেতে হলে অন্যান্য শর্ত’র মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কেন্দ্র সুরক্ষিত পাকা বাড়িসহ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হতে হবে এবং তাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস সহ নিরিবিলি পরিবেশ থাকতে হবে, কেন্দ্র বহুতল ভবনের তৃতীয় বা তদূর্ধ্ব তলায় হলে গমনাগমনের জন্য লিফটের ব্যবস্থা সহ প্রতিটি মাদকাসক্ত রোগীর জন্য গড়ে কমপক্ষে আশি বর্গফুট মেঝে জায়গা থাকতে হবে, কেন্দ্র প্রতি দশ বেডের জন্য অন্যূন একজন মনোচিকিৎসক (খন্ডকালীন বা সার্বক্ষণিক), একজন ডাক্তার (সার্বক্ষণিক), দুইজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা বয় থাকতে হবে, কেন্দ্রে আগত মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার সুবিধার্থে কেন্দ্রটিকে কোন অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক ল্যাবের সাথে এ্যাফিলিয়েটেড থাকতে হবে, চিকিৎসার স্বার্থে কেন্দ্রে কোন মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স থাকতে হবে। এছাড়াও কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অন্যতম সাধারন শর্ত হল লাইসেন্সীকে বা তার নিযুক্ত পরামর্শ প্রদানকারীকে অবশ্যই মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রীধারী বা সাইকিয়াট্রিক ডাক্তার বা মনোরোগ চিকিৎসক বা মাদকাসক্তি চিকিৎসা সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসহ এমবিবিএস ডিগ্রীধারী বা মাদকাসক্তি নিরাময় সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হবে।
সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে তখন অনেক মাদকাসক্তরাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে মরিয়া, দ্বারস্থ হচ্ছেন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর। কিন্তু সড়কের অলিতে গলিতে সাইনবোর্ড, দেয়ালে রঙ্গিন পোষ্টার টাঙ্গিয়ে মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসার প্রচার চালালেও গাজীপুরের মাদকাসক্তি নিরামযয় কেন্দ্রগুলোতে সেবার নামে চলছে অপচিকিৎসা।
অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এ সকল কেন্দ্রের মালিক বা পরিচালকগণ কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণকালীন সময়ে আবেদনের সাথে জাল ও সঠিকের সংমিশ্রনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিয়ে লাইসেন্স বাগিয়ে আনলেও লাইসেন্স গ্রহণের পূর্বে ও পরে কখনও কেন্দ্র পরিচালনাকারীরা বিধিমোতাবেক কেন্দ্র পরিচালনা করেনি।
অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্র পরিচালনায় প্রতি দশ বেডের রোগীদের একজন সার্বক্ষণিক ও একজন খন্ডকালীন মনোচিকিৎসক ও দুইজন নার্স বা বয় দ্বারা চিকিৎসা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও চিকিৎসা দিচ্ছেন কেন্দ্র মালিক নিজেই। বেশিরভাগ মালিকই স্বীকার করেন তার পূর্বের মাদকাসক্ত জীবনের ব্যাপারে। তবে বর্তমানে তারা সুস্থ্য থাকার কথা বললেও এখনও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে খোদ তাদেরই বিরুদ্ধে। এছাড়াও অনেক মাদকাসক্ত মালিকদের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবনসহ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামীদের নিরাপদ আশ্রয়ন ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।
হান্নান সরকার নামে একজন শিক্ষক অভিযোগ করে জানান, আমি গাজীপুরের একটি কেন্দ্রে কয়েকজন রোগী ভর্তি করেছিলাম সবার সাথে প্রতারনা করা হয়েছে। ভেতরে সকল প্রকার নির্যাতন করা হত। বিশাল জিনিস পত্রের লিষ্ট দেয়া হয়- আমরা কিনে দেই। কিন্তু রোগীকে কিছুই দেয়া হতো না, বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে গেলে তা দেয়া হতো না। বরং রোগীকে মাদক সেবনে উৎসাহিত করা হতো।
কোন রকম স্বীকৃত অভিজ্ঞতা না নিয়ে ডাক্তার, মনোচিকিৎসক, নার্স বা বয় ছাড়া নিরাময় প্রত্যাশিদের কিভাবে চিকিৎসা দেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা বলেন, আমরা যখন মাদকাসক্ত ছিলাম তখন কেন্দ্র থেকে যেভাবে চিকিৎসা নিয়েছি সেভাবেই চিকিৎসা দেই, আর বেশি সমস্যা হলে আমরা পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাই।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো: খায়রুজ্জামান জানান, ‘মাদক’ বিশেষ করে ইয়াবা সেবনে কিডনি, লিভার ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সাময়িক যৌন উত্তেজনা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়৷ এছাড়া ইয়াবার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের বিকল্প নেই।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনিয়মে জড়িত একটি কেন্দ্র বন্ধ করেছি এবং আরো যেসকল নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিয়োগ রয়েছে তাদেরকে নোটিশের মাধ্যমে শোকজ করা হবে। ফাইনালি কোন কেন্দ্র বিধিমালা মোতাবেক সেবা নিশ্চত করতে না পারলে তদন্তপূর্বক তার কেন্দ্র বন্ধ করতে আমরা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠাব।
গাজীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহীনুর ইসলাম বলেন, যে সকল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সরকারী বিধিমালা না মেনে পরিচালিত হচ্ছে অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) এস, এম, জাকির হোসেন জানান, ইতোমধ্যে আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটি ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করেছি, এই কমিটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরকে জানাবে। এই তথ্য হাতে পেলেই, যেসকল কেন্দ্র বিধিমালা না মেনে পরিচালিত হচ্ছে তাদের লাইসেন্স আমরা বাতিল করে দিব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের তথ্য মতে এই জেলায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে ২৪টি, এর ভেতরে ২০টি রয়েছে অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স প্রাপ্ত বাকি ৪ টি রয়েছে লাইসেন্সের জন্য আবেদিত।
লাইসেন্স প্রাপ্তরা হলেন: ১.আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১.ভাওয়াল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৩.প্রশান্তি মাদকাসক্তি নিরাময় ও তথ্য কেন্দ্র, ৪.বন্ধন মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, ৫.ছায়া মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৬.সুন্দর জীবন মাদকাসক্ত পুনর্বাসন, সহায়তা ও পরামর্শ কেন্দ্র, ৭.সাদর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৮.নব জীবন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ৯.গ্রীণ হাউজ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১০.ধ্রুবতারা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১১.নিউ আশির্বাদ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১২.আদর্শ জীবন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৩.আলোর ভূবন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৪.এজেফ মাদকাসক্তি চিকিৎসা, পুনর্বাসন কেন্দ্র, ১৫.নিউ প্রত্যয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৬.নিউ অঙ্গিকার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ১৭.আলোর জীবন মাদকাসক্তি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ১৮.নিউ লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ১৯.জীবনের স্বপ্ন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, ও ২০.মৌচাক মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। লাইসেন্স থাকলেও এসকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।
‘বেসরকারী পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৫’ মোতাবেক এসকল কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স পেতে হলে অন্যান্য শর্ত’র মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কেন্দ্র সুরক্ষিত পাকা বাড়িসহ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হতে হবে এবং তাতে পর্যাপ্ত আলো বাতাস সহ নিরিবিলি পরিবেশ থাকতে হবে, কেন্দ্র বহুতল ভবনের তৃতীয় বা তদূর্ধ্ব তলায় হলে গমনাগমনের জন্য লিফটের ব্যবস্থা সহ প্রতিটি মাদকাসক্ত রোগীর জন্য গড়ে কমপক্ষে আশি বর্গফুট মেঝে জায়গা থাকতে হবে, কেন্দ্র প্রতি দশ বেডের জন্য অন্যূন একজন মনোচিকিৎসক (খন্ডকালীন বা সার্বক্ষণিক), একজন ডাক্তার (সার্বক্ষণিক), দুইজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা বয় থাকতে হবে, কেন্দ্রে আগত মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার সুবিধার্থে কেন্দ্রটিকে কোন অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক ল্যাবের সাথে এ্যাফিলিয়েটেড থাকতে হবে, চিকিৎসার স্বার্থে কেন্দ্রে কোন মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের লাইসেন্স থাকতে হবে। এছাড়াও কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অন্যতম সাধারন শর্ত হল লাইসেন্সীকে বা তার নিযুক্ত পরামর্শ প্রদানকারীকে অবশ্যই মনোবিজ্ঞানে ডিগ্রীধারী বা সাইকিয়াট্রিক ডাক্তার বা মনোরোগ চিকিৎসক বা মাদকাসক্তি চিকিৎসা সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসহ এমবিবিএস ডিগ্রীধারী বা মাদকাসক্তি নিরাময় সম্পর্কে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রীধারী হতে হবে।
সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে তখন অনেক মাদকাসক্তরাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে মরিয়া, দ্বারস্থ হচ্ছেন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর। কিন্তু সড়কের অলিতে গলিতে সাইনবোর্ড, দেয়ালে রঙ্গিন পোষ্টার টাঙ্গিয়ে মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসার প্রচার চালালেও গাজীপুরের মাদকাসক্তি নিরামযয় কেন্দ্রগুলোতে সেবার নামে চলছে অপচিকিৎসা।
অনুসন্ধান করে দেখা যায়, এ সকল কেন্দ্রের মালিক বা পরিচালকগণ কর্তৃপক্ষর কাছ থেকে লাইসেন্স গ্রহণকালীন সময়ে আবেদনের সাথে জাল ও সঠিকের সংমিশ্রনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিয়ে লাইসেন্স বাগিয়ে আনলেও লাইসেন্স গ্রহণের পূর্বে ও পরে কখনও কেন্দ্র পরিচালনাকারীরা বিধিমোতাবেক কেন্দ্র পরিচালনা করেনি।
অভিযোগ রয়েছে কেন্দ্র পরিচালনায় প্রতি দশ বেডের রোগীদের একজন সার্বক্ষণিক ও একজন খন্ডকালীন মনোচিকিৎসক ও দুইজন নার্স বা বয় দ্বারা চিকিৎসা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও চিকিৎসা দিচ্ছেন কেন্দ্র মালিক নিজেই। বেশিরভাগ মালিকই স্বীকার করেন তার পূর্বের মাদকাসক্ত জীবনের ব্যাপারে। তবে বর্তমানে তারা সুস্থ্য থাকার কথা বললেও এখনও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে খোদ তাদেরই বিরুদ্ধে। এছাড়াও অনেক মাদকাসক্ত মালিকদের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে মাদক ব্যবসা, মাদক সেবনসহ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামীদের নিরাপদ আশ্রয়ন ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।
হান্নান সরকার নামে একজন শিক্ষক অভিযোগ করে জানান, আমি গাজীপুরের একটি কেন্দ্রে কয়েকজন রোগী ভর্তি করেছিলাম সবার সাথে প্রতারনা করা হয়েছে। ভেতরে সকল প্রকার নির্যাতন করা হত। বিশাল জিনিস পত্রের লিষ্ট দেয়া হয়- আমরা কিনে দেই। কিন্তু রোগীকে কিছুই দেয়া হতো না, বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে গেলে তা দেয়া হতো না। বরং রোগীকে মাদক সেবনে উৎসাহিত করা হতো।
কোন রকম স্বীকৃত অভিজ্ঞতা না নিয়ে ডাক্তার, মনোচিকিৎসক, নার্স বা বয় ছাড়া নিরাময় প্রত্যাশিদের কিভাবে চিকিৎসা দেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা বলেন, আমরা যখন মাদকাসক্ত ছিলাম তখন কেন্দ্র থেকে যেভাবে চিকিৎসা নিয়েছি সেভাবেই চিকিৎসা দেই, আর বেশি সমস্যা হলে আমরা পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাই।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো: খায়রুজ্জামান জানান, ‘মাদক’ বিশেষ করে ইয়াবা সেবনে কিডনি, লিভার ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সাময়িক যৌন উত্তেজনা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়৷ এছাড়া ইয়াবার কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের বিকল্প নেই।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনিয়মে জড়িত একটি কেন্দ্র বন্ধ করেছি এবং আরো যেসকল নিরাময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিয়োগ রয়েছে তাদেরকে নোটিশের মাধ্যমে শোকজ করা হবে। ফাইনালি কোন কেন্দ্র বিধিমালা মোতাবেক সেবা নিশ্চত করতে না পারলে তদন্তপূর্বক তার কেন্দ্র বন্ধ করতে আমরা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠাব।
গাজীপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহীনুর ইসলাম বলেন, যে সকল মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সরকারী বিধিমালা না মেনে পরিচালিত হচ্ছে অচিরেই তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) এস, এম, জাকির হোসেন জানান, ইতোমধ্যে আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটি ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করেছি, এই কমিটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে অধিদপ্তরকে জানাবে। এই তথ্য হাতে পেলেই, যেসকল কেন্দ্র বিধিমালা না মেনে পরিচালিত হচ্ছে তাদের লাইসেন্স আমরা বাতিল করে দিব।
সূত্র: দৈনিক সরেজমিন বার্তা:


কোন মন্তব্য নেই